জাতীয়

পরাজয় কি শেষ কথা? উচ্চকক্ষে ঢোকার নতুন দরজা খুলছে ত্রয়োদশ সংসদে

  প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:১৭:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

EcDx281125

নিউজ ডেস্ক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ। কারা হবেন এই কক্ষের সদস্য, কী হবে তাদের যোগ্যতা—এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন গুঞ্জন, বিতর্ক আর কৌতূহলে ভরপুর। বিশেষ করে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নটি হলো—নিম্নকক্ষের নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীরা কি উচ্চকক্ষে যেতে পারবেন?এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

পরাজয় সত্ত্বেও সুযোগ—তবে একবারই
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সাধারণত উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতায় এবারের নিম্নকক্ষের নির্বাচন আগে হওয়ায় রাখা হচ্ছে একটি বিশেষ বিধান। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরাও উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন—যদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মনোনয়ন দেয়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন,
“এটি কেবল ত্রয়োদশ সংসদের জন্য প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে এই সুযোগ আর থাকবে না।”
কারণ, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। চতুর্দশ সংসদ হবে সংশোধিত সংবিধানের অধীনে, যেখানে একই সঙ্গে উভয় কক্ষের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। সেক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুই কক্ষে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না।

উচ্চকক্ষ গঠনের কাঠামো কেমন?

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী—
উচ্চকক্ষ হবে ১০৫ সদস্যের
১০০ জন সদস্য হবেন দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত
৫ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন—বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে
সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার শেষ করবে
এর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যেই উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে
উচ্চকক্ষের মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত

 দ্বিকক্ষীয় সংসদ: ক্ষমতা ও ভূমিকা
উচ্চকক্ষ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে রূপ নেবে।
উচ্চকক্ষ—
আইন পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা পাবে
সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে
সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারবে না
তবে প্রশ্ন উত্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে
এতে আঞ্চলিক ও প্রান্তিক কণ্ঠস্বর জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিম্নকক্ষের আসন বণ্টনও বদলাচ্ছে
মোট আসন: ৫০৫টি
নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন

৩০০টি সরাসরি ভোটে (ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট)
১০০টি নারী সংরক্ষিত আসন—নারী প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি ভোটে নির্বাচন

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ সংসদ এক অর্থে রূপান্তরের সেতুবন্ধন। পরাজিত প্রার্থীদের জন্য উচ্চকক্ষের এই এককালীন সুযোগ যেমন রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছে সম্পূর্ণ নতুন সাংবিধানিক কাঠামোর পথ।

এন/টি #

আরও খবর

Sponsered content