প্রতিনিধি ৯ জুলাই ২০২৬ , ২:১২:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেরানীগঞ্জ:

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে র্যাব সদস্য পরিচয়ে এক সৌদি প্রবাসীকে যাত্রীবাহী বাস থেকে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মারধর করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা ১০৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নগদ এবং একটি আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেয়। লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী বুলেট বেপারী (৪০) মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বুলেট বেপারী জানান, ঈদুল আজহার আগে তিনি বাংলাদেশে আসেন। গ্রামের বাড়ির পাশে ৮ শতাংশ জমি কেনার জন্য টাকার প্রয়োজন হওয়ায় গত ৮ জুলাই সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ২০৭ গ্রাম ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার নিয়ে ঢাকার তাঁতীবাজারে যান। সেখানে ঝর্ণা জুয়েলার্সে ১০০ গ্রাম স্বর্ণ বিক্রি করে বর্তমান বাজারদরে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। বাকি ১০৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং বিক্রির নগদ টাকা নিয়ে তিনি বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি আরও জানান, তাঁতীবাজার মোড় থেকে অটোরিকশাযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বরে এসে ৫ কেজি আম কেনেন। পরে আব্দুল্লাহপুর-নিমতলাগামী একটি বাসে উঠে বাড়ির পথে রওনা দেন। পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ঝিলমিল প্রজেক্ট এলাকার সামনে হাইওয়ে সড়কের একটি সেতুর নিচে অজ্ঞাত নম্বরের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে থাকা র্যাবের পোশাক পরিহিত ছয় ব্যক্তি তাদের বাসের গতিরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিরা বাস থামিয়ে বুলেট বেপারীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তোলে। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা ১০৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নগদ এবং প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে চোখ বেঁধে ফেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাথি মেরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সড়কে ফেলে রেখে নিমতলার দিকে চলে যায়। পরে পথচারীদের সহায়তায় তিনি র্যাব-১০ এর কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানালে সেখানকার কর্মকর্তারা তাকে জানান, ঘটনার সময় ওই এলাকায় তাদের কোনো টিম দায়িত্বে ছিল না। এরপরই তিনি নিশ্চিত হন যে, র্যাবের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে ভুয়া পরিচয়ে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী। থানায় লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান, তিনি দুর্বৃত্তদের আবার দেখলে শনাক্ত করতে পারবেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/টি#

















