প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ১:৪৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক: আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিন কে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে দেশের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন। ১২ই রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হলেও নবীজির জন্মের তারিখ ও সময় নিয়ে বিভিন্ন কিতাবে মতভেদ পাওয়া যায়।
মহানবী (সা.) ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে ভূমিষ্ঠ হন এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আরবি হিজরি সাল অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।
বিভিন্ন কিতাবে ৮ই রবিউল আউয়াল মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ হাদিসবিশারদ একে বিশুদ্ধ বলেও মত দিয়েছেন।
সিরাতবিষয়ক গ্রন্থ ‘আর রহিকুল মাকতুম’ প্রথম খন্ডের ৪৫ নম্বর পাতায়-এ উল্লেখ করা হয়েছে সায়্যিদুল মুরসালিন মক্কায় বনি হাশিমের ঘাঁটিতে সোমবার সকালে ৯ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর হাতির ঘটনা ঘটে। সে বছর পারস্য দেশের বাদশাহ আনু শিরোয়ার ক্ষমতা গ্রহণের ৪০ বছর পূর্ণ হয়।
মহানবী (সা.)-এর জীবনী লেখকদের মধ্যে প্রথম সারির লেখক ইবনে ইসহাক সিরাতে ইবনে হিশাম কিতাবের প্রথম খন্ডের ১৫৮ পাতায় উল্লেখ করেছেন মহানবী (সা.) হাতিবাহিনীর ঘটনার বছর ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন।
তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন প্রণেতা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) উল্লেখ করেছেন,এ বিষয়ে সবাই একমত যে নবী করিম (সা.)-এর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন হয়েছিল। কিন্তু তারিখ নির্ধারণে চারটি বর্ণনা প্রসিদ্ধ আছে—২, ৮, ১০ ও ১২ রবিউল আউয়াল।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম তারিখ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দিন হিসেবে সোমবার সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই। কারণ হাদীস বিশারদগণ একমত যে রবিউল আউয়াল মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে সোমবার দিন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম। এই সোমবার ৮ অথবা ৯ কিংবা ১২—এটুকুতেই হিসাবের পার্থক্য রয়েছে মাত্র।
যেহেতু নবীজি জীবদ্দশায় অথবা তার সাহাবীরা নবীজির জন্মদিন ঘটা করে দিবস হিসেবে পালন করেনি তাই উম্মতের জন্য এটা পালনের কোন নির্দেশনা নেই। তবে নবীজি সোমবার তার জন্ম হওয়ায় প্রতি সোমবার রোজা পালন করতেন। বর্তমান সময়ের বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য আলেম মতামত পেশ করেছেন,নবীর মহব্বতে যদি কেউ সোমবার রোজা পালন করে তবে সে বিশেষ নফল সওয়াবের অধিকারী হবে।