জাতীয়

তারেক রহমানের সরকার পরিকল্পনায় ছোট মন্ত্রিসভার আভাস

  প্রতিনিধি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:১৫:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

1200px বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পতাকা.svg

নিউজ ডেস্ক: প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমান শুরুতেই বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। প্রশাসনিক ব্যয় কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি মন্ত্রিসভার আকার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট রাখার পরিকল্পনা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি কাঠামোয় থাকা ৪৩টি মন্ত্রণালয় কমিয়ে ৩০–এর নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা চলছে। বিশেষ করে গত দেড় দশকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেসব মন্ত্রণালয় ভেঙে আলাদা করা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটিকে আবার একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই ধরনের কাজ করা মন্ত্রণালয়গুলোকে এক ছাতার নিচে আনার ভাবনাও রয়েছে—ফলে সড়ক পরিবহন ও রেল এক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আসতে পারে।

 

কেমন হবে নতুন মন্ত্রিসভা?

দলীয় সিনিয়র নেতাদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন। এর পাশাপাশি এক ডজনের মতো প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখার পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে। লক্ষ্য একটাই—ছোট কিন্তু কার্যকর সরকার।

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মেলবন্ধন

নতুন সরকারে অভিজ্ঞ প্রবীণদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তুলনামূলক কম বিতর্কিত এবং অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে—এমন নেতাদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কম হলেও সম্ভাবনাময় তরুণরা পাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ।

 

দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন যারা…

এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীন নেতাদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।

এর মধ্যে তুলনামূলক কম বিতর্কিত ও অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন- এমন অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু মেধাবী- এ রকম তরুণ নেতারা পাচ্ছেন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও বেশ কয়েক জনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

নারীদের মধ্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে মিজ ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।

এছাড়া তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে যারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন, তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন: লক্ষ্মীপুর সদর আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ আসনে জয়লাভ করা ইশরাক হোসেন।

এবারের নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ দল ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৩ আসন থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম জয় পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় আছে।

বিগত সময় বিএনপি’র সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, সেই মিত্র দলগুলো থেকে মাত্র তিনজন জয় পেয়েছেন। তারা হলেন: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর।

তারা তিনজনই নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

অন্যদিকে, সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা এবারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জায়গা পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে।

তাদের মধ্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।

সব আলোচনা, হিসাব–নিকাশ আর গুঞ্জনের অবসান ঘটবে খুব শিগগিরই। আগামী মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে—কারা থাকছেন তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভায়, আর কে পাচ্ছেন কোন দায়িত্ব

 

এন/টি #

 

আরও খবর

Sponsered content