প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১:২৮:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে এগোচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর ক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া দলটির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা।
আলোচনার শুরুতেই উঠে আসছে প্রবীণ ও পরীক্ষিত দুই নেতা—আমানুল্লাহ আমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম। দলীয় সূত্র বলছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমানুল্লাহ আমান এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্বে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও দলীয় আন্দোলনে দীর্ঘ ভূমিকার কারণে তাদের নামকে ‘অগ্রাধিকার তালিকায়’ রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২৯৭ আসনের ফল অনুযায়ী বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২টি আসন। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে। এই বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন।
ফল ঘোষণার পরপরই দলটির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দলীয় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার অভিজ্ঞ রাজনীতিক, আন্দোলনের মুখ ও টেকনোক্রেটদের সমন্বয়ে একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা’ গঠনের কৌশল নিতে পারে বিএনপি।
সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইন মন্ত্রণালয়ে অ্যাডভোকেট আছাদুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে ড. রেজা কিবরিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সম্ভাব্য মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মেজর (অব.) হাফিজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এহছানুল হক মিলন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডা. জেড এম জাহিদ হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান কিংবা রুহুল কবির রিজভির নাম আলোচনায় রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য বরকত উল্যা বুলু, আলী আসগর লবি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম ঘুরছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তে মির্জা আব্বাস, শিল্প মন্ত্রণালয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তাহমিনা রুশদি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ড. আব্দুল মঈন খান এবং সংসদ পরিচালনায় চিফ হুইপ হিসেবে জয়নাল আবেদিন ফারুক ও হুইপ হিসেবে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।
সব মিলিয়ে, আমানুল্লাহ আমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের সামনে রেখে বিএনপি একটি রাজনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ, প্রশাসনিকভাবে কার্যকর এবং সংস্কারমুখী মন্ত্রিসভা গঠনের পথে হাঁটছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসবই থাকছে আলোচনার স্তরেই থাকছে।

এন/টি #
















